Published : 09 Jul 2026, 05:54 AM
রাজধানীর আদাবরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার (৪৫) নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি প্রাণ হারান। এই হামলায় মো. সাদ্দাম (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত আবুল বাশারকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আহত সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নিহত আবুল বাশারের বড় ভাই সবুজ মিয়া জানান, এই হামলার পেছনে পূর্বশত্রুতা কাজ করেছে। তাঁর দাবি, আবুল বাশার একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। খেলা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করতে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জন লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত আবুল বাশার বিএনপির নবোদয় হাউজিং ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পটভূমি ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব এবং এক কিশোরের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ। এই বিরোধের জের ধরে বুধবার রাতে আদাবরের নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে সালিশের শেষ পর্যায়ে আবারও সংঘর্ষ বাধে, যেখানে আবুল বাশার ও সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশারের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেটকারচালক ছিলেন এবং তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিটের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাসস্থান ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অন্তর্গত। বর্তমানে তিনি আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।।
মিরপুরে দেয়ালধসের মর্মান্তিক পরিণতি: টিসিবির পণ কেনার সময় আরও একজনের মৃত্যু